হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ রজব, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ (বুধবার), বাদ মাগরিব এ মজলিসের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ইমামে জামান (আ.)-এর মাধ্যমে।
মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ২৫ রজব ইমাম মুসা ইবনে জাফর আল কাজিম (আ.) এর শাহাদাত দিবস। ১৮৩ হিজরীর এই দিনে বাগদাদে ৫৫ বছর বয়সে তদানীন্তন শাসক হারুন-আর-রাশীদের এক চক্রান্তমূলক বিষ প্রয়োগে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। বাগদাদের কাজেমিয়ায় তাঁর মাজার রয়েছে। যদি নামাজ কবুল করা হয় তাহলে সব দোয়া কবুল করা হবে যদি নামাজ কবুল করা না হয় তাহলে কোন দোয়া কবুল করা হবে না। নামাজ সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য মানুষকে কুকর্ম থেকে বিরত রাখে। একজন ব্যক্তি এসে ইমাম যয়নুল আবেদীন (আ.)কে বললো, হে ইমাম নামাজ কুকর্ম থেকে বাধা প্রদান করে কিন্তু আমার নামাজ কুকর্ম থেকে কোন বাধা প্রদান করে না। ইমাম তার উত্তরে বললেন, নামাজের চার হাজার স্তর রয়েছে। তুমি যখন প্রথম স্তরে নামাজ রেখে দিবা তখন এই নামাজ কুকর্ম থেকে বাধা প্রদান করবে না। নামাজকে মেরাজের দিকে নিয়ে যাও। তুমি নামাজকে মেরাজের দিকে নিয়ে যাবা নামাজ তোমাকে মেরাজের দিকে নিয়ে যাবে। নামাজ হচ্ছে মুমিনের মিরাজ।
ইমাম মুসা ইবনে জাফর (আ.) ছিলেন ইমামতি ধারার সপ্তম ইমাম। খোদার ইবাদত বন্দেগীতে অন্যান্য নিষ্ঠাবান হওয়ায় তিনি আব্দুস সালেহ বা খোদার নেক বান্দাহ খেতাবে ভূষিত হন। তাঁর মূল নাম ছিল মুসা। আল-কাজিম ছিল তার উপাধি এবং ডাকনাম ছিল আবু ইব্রাহীম।
ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদেক (আ.) ১৪৮ হিজরীর ২৫ শাওয়াল শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন এবং ঐদিন থেকে ইমাম মুসা আল কাজিম (আ.) সপ্তম ইমাম হসিাবে অভিক্তিত হন। ৩৫ বছর পর্যন্ত তাঁর ইমামতকাল বহাল ছিল।
ইমামতের প্রথম দশক তিনি শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর ইমামতের দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং মহানবী (সা.) এর শিক্ষা প্রচারের কাজে ব্যাপৃত থাকেন। কিন্তু এক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন শাসকদের রোষানলে পড়লে জীবনের একটা বিরাট অংশ তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।
ইমাম মুসা আল-কাজিমের (আ.) জীবন অতিবাহিত হয় আব্বাসীয় শাসনের ক্রান্তিকালে। তিনি একাধারে আল মনসুর আদ দাওয়াকিনি, আল মাহদী ও হারুন আর রশীদের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন। আল মনসুর ও হারুন আর রশীদ মহানবী (সা.) এর বহু ভক্ত অনুসারীকে তরবারির নীচে স্থান দান করে। তাঁর জীবনকালেই বহু লোককে জীবন্ত কবর দিয়ে শহীদ করা হয় এবং অনেককে কারাগারে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ করা হয়।
১৬৪ হিজরীতে আল মনসুরের পুত্র আল মাহদী শাসক হিসেবে একবার মদীনায় আসে এবং ইমাম মুসা আল কাজিমের (আ.) ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে বাগদাদে নিয়ে যায় এবং কারাগারে নিক্ষেপ করে।
এক বছর পর ইমামকে মুক্তি দেয়। ১৭০ হিজরীতে হারুন আল রশীদ আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের প্রধান হিসেবে ক্ষমতাসীন হলে ইমাম মুসা আল কাজিমকে পুনরায় কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। বিষ প্রয়োগে শহীদ হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাগারেই ছিলেন। ইমাম মুসা আল কাজিমের (আ.) রাত অতিবাহিত করতেন ইবাদতের মধ্য দিয়ে আর দিনে রোজা পালন করতেন। যারা তার কাছে কোন ভুল ত্রুটি করতো তাদেরকে তিনি মাফ করে দিতেন।
১৭৯ হিজরীতে হারুন আর রশীদ মদীনা সফরে এসে মদীনার জনসাধারণের মধ্যে এই মহান ইমামের বিরাট প্রভাব ও বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে হিংসা ও শত্রুতার আগুনে জ্বলে ওঠে। মসজিদে নবীতে নামাজরত অবস্থায় ইমামকে সে গ্রেফতার করে বাগদাদের কারাগারে নিয়ে চার বছর পর্যন্ত আটক করে রাখে।
১৮৩ হিজরীর ২৫ রজব বিষ প্রয়োগে তাঁকে শহীদ করা হয়। তাঁর লাাশের সাথেও মানবিক আচরণ করা হয়নি। কারাগার থেকে বের করে তাঁর লাশ বাগদাদ সেতুর উপর ফেলে রাখা হয়। ইমামের ভক্ত ও অনুসারীরা অবশ্য পরে তাঁর লাশ সংগ্রহ করে ইরাকের কাজিমিয়াতে দাফন করেন।
এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম মুসা কাজিম (আ.)-এর শিক্ষা ও মানবতার বার্তার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ। মজলিসের শেষে দোয়া এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
২৫ রজব ইমাম মুসা ইবনে জাফর আল কাজিম (আ.) এর শাহাদাত দিবস। ১৮৩ হিজরীর এই দিনে বাগদাদে ৫৫ বছর বয়সে তদানীন্তন শাসক হারুন-আর-রাশীদের এক চক্রান্তমূলক বিষ প্রয়োগে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
আপনার কমেন্ট